Color Switcher

Mourning Dove

Zenaida macroura
  • Home
  • Mourning Dove Details
iconAbout Mourning Dove

Mourning Dove সম্পর্কে মৌলিক তথ্য

Mourning Dove সম্পর্কে মৌলিক তথ্য

Scientific NameZenaida macroura
Status LC অসংকটাপন্ন
Size23-34 cm (9-13 inch)
Colors
Gray
Brown
TypeUpland Ground Birds

ভূমিকা

মর্নিং ডাভ (Mourning Dove), যার বৈজ্ঞানিক নাম Zenaida macroura, উত্তর আমেরিকার অন্যতম পরিচিত এবং বহুল বিস্তৃত একটি পাখি। এদের শান্ত স্বভাব এবং করুণ সুরের ডাকের কারণে এদের নাম 'মর্নিং ডাভ' রাখা হয়েছে। এই পাখিটি মূলত কলাম্বিডি (Columbidae) পরিবারের অন্তর্ভুক্ত। এরা সাধারণত মানুষ অধ্যুষিত এলাকা, খোলা মাঠ এবং বনাঞ্চলে বিচরণ করতে পছন্দ করে। এদের শারীরিক গঠন অত্যন্ত মার্জিত এবং এদের ওড়ার কৌশল খুবই দ্রুত। মর্নিং ডাভ কেবল একটি সুন্দর পাখিই নয়, এটি বাস্তুসংস্থানের ভারসাম্য রক্ষায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বছরের বিভিন্ন ঋতুতে এদের বিচরণ ক্ষেত্র পরিবর্তিত হতে পারে, তবে এরা সাধারণত স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবেই পরিচিত। প্রকৃতিপ্রেমী এবং পক্ষী পর্যবেক্ষকদের কাছে এই পাখিটি অত্যন্ত প্রিয় কারণ এদের সহজে দেখা যায় এবং এদের জীবনধারা পর্যবেক্ষণ করা বেশ আনন্দদায়ক। এই প্রবন্ধে আমরা এই চমৎকার পাখির বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব।

শারীরিক চেহারা

মর্নিং ডাভ একটি মাঝারি আকারের পাখি, যার দৈর্ঘ্য সাধারণত ২৩ থেকে ৩৪ সেন্টিমিটার পর্যন্ত হয়ে থাকে। এদের শারীরিক গঠন বেশ সুসংহত এবং বায়ুগতিশীল। এদের শরীরের প্রাথমিক রঙ ধূসর (Gray) এবং গৌণ রঙ হিসেবে হালকা বাদামী (Brown) আভা দেখা যায়। এদের ডানাগুলো বেশ লম্বা এবং সূচালো, যা তাদের দ্রুত ওড়ার সক্ষমতা দেয়। এদের মাথায় একটি ছোট এবং গোলাকার গড়ন রয়েছে, যার ওপর কালো রঙের ছোট ছোট ছোপ দেখা যায়। এদের চোখের চারপাশের চামড়া নীলচে রঙের হয়ে থাকে, যা তাদের অনন্য সৌন্দর্য দান করে। এদের লেজটি লম্বা এবং সরু, যা ওড়ার সময় ফ্যানের মতো ছড়িয়ে পড়তে পারে। পুরুষ এবং স্ত্রী মর্নিং ডাভ দেখতে প্রায় একই রকম হলেও, পুরুষদের ঘাড়ের দিকে কিছুটা উজ্জ্বল বা উজ্জ্বল আভা দেখা যায়। এদের পাগুলো ছোট এবং লালচে রঙের হয়, যা মাটিতে হাঁটার জন্য বেশ উপযোগী। সামগ্রিকভাবে, মর্নিং ডাভ একটি মার্জিত এবং সুন্দর পাখি।

বাসস্থান

মর্নিং ডাভ মূলত 'আপল্যান্ড গ্রাউন্ড বার্ড' বা স্থলচর পাখি হিসেবে পরিচিত। এরা খোলা প্রান্তর, কৃষি জমি, পার্ক, বাগান এবং এমনকি শহরের বসতবাড়ির আশেপাশেও বসবাস করতে পছন্দ করে। এদের অভিযোজন ক্ষমতা অত্যন্ত প্রবল, যার ফলে এরা মরুভূমি থেকে শুরু করে ঘন বনাঞ্চল পর্যন্ত সব ধরনের পরিবেশে টিকে থাকতে পারে। তবে এরা সাধারণত খুব গভীর বা ঘন জঙ্গলে থাকতে পছন্দ করে না। এরা মাটিতে খাবার খুঁজতে এবং বিশ্রাম নিতে অভ্যস্ত। শীতকালে এরা সাধারণত উষ্ণ অঞ্চলের দিকে পরিযায়ী হয়, তবে অনেক ক্ষেত্রে এরা সারা বছর একই এলাকায় স্থায়ীভাবে বসবাস করে। এদের বাসা বাঁধার জন্য এরা গাছের ডাল বা ঝোপঝাড়কে বেছে নেয়।

খাদ্যাভ্যাস

মর্নিং ডাভের প্রধান খাদ্য হলো বিভিন্ন ধরণের বীজ। এরা মূলত মাটিতে পড়ে থাকা শস্যদানা, আগাছার বীজ এবং বুনো ফল খেয়ে জীবনধারণ করে। বিশেষ করে সূর্যমুখী বীজ, গম, ভুট্টা এবং বিভিন্ন ধরণের ঘাসের বীজ এদের প্রিয়। এরা খুব ভোরে এবং বিকেলে খাবার সংগ্রহ করতে বের হয়। খাবার খাওয়ার সময় এরা তাদের ফসকা বা ক্রপে প্রচুর পরিমাণে বীজ জমা রাখতে পারে, যা পরে হজম করে। পানির অভাব পূরণ করতে এরা সাধারণত প্রতিদিন অন্তত একবার জলাশয়ের কাছে যায়। এরা খুব তৃষ্ণার্ত পাখি এবং পানি পানের সময় এরা স্ট্রয়ের মতো পানি চুষে পান করতে পারে, যা অন্যান্য পাখির তুলনায় ভিন্ন।

প্রজনন এবং বাসা

মর্নিং ডাভের প্রজননকাল বেশ দীর্ঘ। এরা সাধারণত বছরে একাধিকবার ডিম পাড়তে পারে। বাসা তৈরির ক্ষেত্রে এরা গাছের ডাল, ঝোপঝাড় বা কখনও কখনও মানুষের তৈরি কাঠামোর ওপর ভরসা করে। বাসাগুলো সাধারণত খুব একটা মজবুত হয় না; এটি পাতলা ডালপালা দিয়ে তৈরি একটি অগোছালো কাঠামো। স্ত্রী পাখি সাধারণত দুটি সাদা রঙের ডিম পাড়ে। ডিম ফুটে বাচ্চা বের হতে প্রায় দুই সপ্তাহ সময় লাগে। বাবা এবং মা উভয়ই মিলে বাচ্চাদের খাওয়ানোর দায়িত্ব পালন করে। এরা বাচ্চাদের 'ক্রপ মিল্ক' বা এক ধরণের পুষ্টিকর তরল খাওয়ায়, যা তাদের দ্রুত বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। দুই সপ্তাহের মধ্যেই বাচ্চারা উড়তে শিখে যায় এবং বাসা ছেড়ে দেয়।

আচরণ

মর্নিং ডাভ অত্যন্ত লাজুক এবং শান্ত স্বভাবের পাখি। এদের ওড়ার সময় ডানা থেকে এক ধরণের শিস দেওয়ার মতো শব্দ তৈরি হয়, যা এদের শনাক্ত করতে সাহায্য করে। এরা সাধারণত জোড়ায় জোড়ায় বা ছোট দলে চলাফেরা করে। এরা খুব দ্রুত ওড়ার ক্ষমতা রাখে এবং বিপদের সংকেত পেলে সাথে সাথে উড়ে যেতে পারে। এদের ডাক অত্যন্ত করুণ এবং দুঃখজাগানিয়া, যা থেকে এদের নামের উৎপত্তি। এরা সাধারণত দিনের বেলা সক্রিয় থাকে এবং সূর্যাস্তের সাথে সাথে বাসায় ফিরে আসে। মানুষের উপস্থিতিতে এরা খুব একটা আতঙ্কিত হয় না, যদি না তাদের বিরক্ত করা হয়।

সংরক্ষণ অবস্থা

আইইউসিএন (IUCN)-এর তথ্য অনুযায়ী, মর্নিং ডাভ বর্তমানে 'স্বল্প উদ্বেগ' (Least Concern) বা বিপদমুক্ত প্রজাতির অন্তর্ভুক্ত। এদের জনসংখ্যা অত্যন্ত স্থিতিশীল এবং ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। উত্তর আমেরিকায় এদের সংখ্যা কোটির উপরে। যদিও শিকার এবং আবাসস্থল ধ্বংসের মতো কিছু ঝুঁকি বিদ্যমান, তবুও এদের খাপ খাইয়ে নেওয়ার ক্ষমতা এদের বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা করছে। বৈশ্বিক উষ্ণায়ন বা পরিবেশ পরিবর্তনের প্রভাব এদের ওপর খুব একটা নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে না, কারণ এরা মানুষের তৈরি পরিবেশের সাথে দারুণভাবে মানিয়ে নিতে পারে।

আকর্ষণীয় তথ্য

  1. মর্নিং ডাভ ঘণ্টায় প্রায় ৮৮ কিলোমিটার বেগে উড়তে পারে।
  2. এরা পানি পানের সময় চুষে পান করতে পারে, যা কবুতর পরিবারের অনন্য বৈশিষ্ট্য।
  3. এদের দুঃখজাগানিয়া ডাক শুনে অনেক সময় মানুষ এদের শোকের প্রতীক মনে করে।
  4. এরা তাদের বাচ্চাদের 'ক্রপ মিল্ক' খাওয়ায় যা অত্যন্ত পুষ্টিকর।
  5. একই মৌসুমে এরা ৫ থেকে ৬ বার পর্যন্ত বাচ্চা ফোটাতে পারে।
  6. এরা দীর্ঘ দূরত্বে পরিভ্রমণ করতে সক্ষম।
  7. এদের ডানার ঝাপটানি থেকে এক ধরণের শিস দেওয়ার শব্দ হয়।

পাখি পর্যবেক্ষকদের জন্য টিপস

মর্নিং ডাভ পর্যবেক্ষণ করার জন্য খুব ভোরে বা বিকেলে খোলা মাঠ বা বাগানে অবস্থান নেওয়া সবচেয়ে ভালো। যেহেতু এরা মাটিতে খাবার খোঁজে, তাই মাটির দিকে নজর রাখলে এদের সহজেই দেখা পাওয়া যায়। এদের ডানার শিস দেওয়ার মতো শব্দ শুনে এদের উপস্থিতি বোঝা সম্ভব। বাইনোকুলার ব্যবহার করলে এদের শারীরিক সৌন্দর্য এবং চোখের চারপাশের নীল আভা পরিষ্কার দেখা যায়। এদের বিরক্ত করবেন না বা খুব কাছে যাওয়ার চেষ্টা করবেন না, কারণ এরা লাজুক প্রকৃতির। যদি আপনার বাগানে খাবার বা পানি রাখেন, তবে মর্নিং ডাভ নিয়মিত সেখানে অতিথি হিসেবে আসবে। ধৈর্য ধরে পর্যবেক্ষণ করলে এদের পারিবারিক জীবন এবং প্রজনন আচরণ খুব কাছ থেকে দেখা সম্ভব।

উপসংহার

মর্নিং ডাভ বা জেনাইডা ম্যাক্রৌরা আমাদের প্রকৃতির এক অনন্য দান। তাদের শান্ত স্বভাব এবং করুণ সুরের ডাক আমাদের বনের এবং গ্রামীণ পরিবেশের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। যদিও এরা একটি সাধারণ পাখি, তবুও এদের জীবনচক্র, প্রজনন পদ্ধতি এবং অভিযোজন ক্ষমতা সত্যিই বিস্ময়কর। একজন পক্ষী পর্যবেক্ষক হিসেবে মর্নিং ডাভকে চেনা এবং তাদের জীবনধারা বোঝা অত্যন্ত আনন্দের। আমাদের উচিত এই সুন্দর পাখিটির আবাসস্থল রক্ষা করা এবং তাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় কোনো ধরনের ব্যাঘাত না ঘটানো। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় প্রতিটি পাখিরই ভূমিকা রয়েছে, আর মর্নিং ডাভ তার ব্যতিক্রম নয়। আমরা যদি আমাদের আঙিনায় বা পার্কে তাদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে পারি, তবেই আমাদের পরবর্তী প্রজন্মও এই চমৎকার পাখির সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারবে। প্রকৃতির এই ক্ষুদ্র এবং শান্ত প্রাণীটি আমাদের শেখায় কীভাবে প্রতিকূলতার মধ্যেও মানিয়ে নিয়ে বেঁচে থাকতে হয়। আশা করি এই নিবন্ধটি আপনাকে মর্নিং ডাভ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে সাহায্য করেছে এবং ভবিষ্যতে এই পাখিটি পর্যবেক্ষণে আপনাকে উৎসাহিত করবে। প্রকৃতির প্রতি আমাদের ভালোবাসা এবং যত্নই পারে এই ধরনের পাখিদের দীর্ঘকাল টিকে থাকতে সাহায্য করতে।

বিতরণ মানচিত্র ও এলাকা

এই প্রজাতির বিতরণের মানচিত্র শীঘ্রই পাওয়া যাবে।

আমরা এই তথ্যটি আপডেট করার জন্য আমাদের অফিসিয়াল ডেটা পার্টনারদের সাথে কাজ করছি।

dove পরিবারের আরও প্রজাতি দেখুন